ফেসবুক মার্কেটিং করুন - আপানার ব্যবসার বিক্রি দ্বিগুণ করুন

আপনি কি ব্যবসার বিক্রি বা উন্নতি নিয়ে চিন্তিত?
কোনভাবেই বিক্রি বাড়াতে পারছেন না ?
আপনি কি আপনার ব্যবসার বিক্রি এখন থেকে দ্বিগুণ বাড়াতে চান ?

তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য । মাত্র ৫ মিনিট সময় নিয়ে পুরো লেখাটি মনযোগ দিয়ে পড়ে ফেলুন, আপনার পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর জন্য পেয়ে যেতে পারেন বর্তমান সময়-উপযোগী প্রমাণিত আসাধারন  কিছু আইডিয়া যা আপনার পন্যের বিক্রি বাড়িয়ে দিবে দ্বিগুণের বেশী ।


আপনি জানেন কি বাংলাদেশে এখন ফেসবুক ব্যবহারকারি ৩-কোটিরও বেশী । ফেসবুক ব্যবহাকারী বেশীরভাগই শিক্ষিতশ্রেণীর । অধিকাংশের বসবাস ঢাকা সিটির মধ্যে । বাংলাদেশে যেখানে ২০১২ সালে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল মাত্র ৩১ হাজারের একটু বেশি , এখন সেখানে ৮ কোটির বেশী মানুষ ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে ।  

আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অনলাইনে ই-কমার্স সাইট এবং ফেসবুকের মাধমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পন্য এবং সেবা কেনা-বেচা হচ্ছে ?

আপনার ব্যবসাকে অনলাইনে বিস্তৃত করে ডিজিটাল মার্কেটিং-এর মাধ্যমে আপনিও আপনার বিক্রিকে দ্বিগুণ তিনগুন বা আরো বেশী বৃদ্ধি করতে পারেন । 
অনালাইনের মাধ্যমে আপনি পৌছে যেতে পারবেন আপনার টার্গেটেড কাস্টমারের কাছে । কারা আপনার পন্য ক্রয় করার জন্য বসে আছে তাদের কাছে পৌছে যাবেন সহজেই ।  আপনর পন্যের জন্য নতুন কাস্টমার তৈরি করতে পারবেন । 


১. ডিজিটাল মার্কেটিং কি ?

- ডিজিটাল প্রযুক্তি (ইন্টারনেট সেবা) ব্যবহার করে কোন পণ্য বা সেবা সুপার টার্গেটেড কাস্টমারের কাছে পৌছে দেয়াই হল ডিজিটাল মার্কেটিং ।  বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। আপনি পৃথিবীতে বাস করছেন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাঝে। সেই হিসেবে আপনার ব্যবসায়ও অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে করতে হবে। আপনি তুলনামুলকভাবে কম খরচে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে কাজ করতে পারেন।

২.  ফেসবুক মার্কেটিং কি ?

- আপনি কি পরিস্কার ভাবে বলতে পারবেন আপনি ফেসবুক কেন ব্যাবহার করেন?

প্রফেশনাল দরকারে? নাকি শুধু মাত্র ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির সাথে কানেক্টেড থাকার জন্য?

আপনি যে কারনেই ফেসবুক ব্যাবহার করেন না কেন, যে কেউ আপনার ফেসবুক পোষ্ট এবং এংগেইজমেন্ট গুলো দেখলে আপনার সম্পর্কে একটা ধারনা তৈরি করে ফেলতে পারবে। আপনার পছন্দ, আপনার আচরণ, আপনার চিন্তা ভাবনা কি এগুলো সহজেই বুঝতে পারবে । 

ফেসবুক তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত প্রফেশনাল ফিচার যোগ করছে । 
ফেসবুক এখন যতটা-না ব্যাক্তিগত কারনে ব্যবহার করা হয়, তার চাইতেও বেশি ব্যবহার করা হয় ব্যবসায়িক দরকারে। ফেসবুক পেইজ হতে শুরু করে গ্রুপ, সবকিছুই এখন ব্যবসায়িক বা প্রফেশনাল কারনে পরিচালিত হচ্ছে। ফেসবুককে ঘিরেই পরিচালিত হচ্ছে অনেক ছোট বা বড় বড় ব্যবসা। যাকে আমরা এফ কমার্সও বলে থাকি।
আর যেহেতু এরকমটা হচ্ছেই, তার মানে ফেসবুক মার্কেটিং এর চাহিদা দিনে দিনে আরো বাড়বে। আপনার সুযোগ হবে ফেসবুক প্লাটফর্মটাকে কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসাকে আরো ডেভেলপ করা। 

৩. আপনার ব্যবসায় ফেসবুক মার্কেটিং কেন দরকার ?

- ২০১৬ সালের জরিপ অনুসারে ফেসবুকের মাসিক একটিভ ব্যবহার কারির সংখ্যা ১.৮৬ বিলিয়ন। প্রতিদিন ফেসবুক ইউজারের সংখ্যা ১.১৫ বিলিয়ন। মোবাইলে ফেসবুক ইউজ করে এমন ইউজারের সংখ্যা ১.৭৪ বিলিয়ন । ফেসবুকে প্রতিদিন ছবি আপলোড এর সংখ্যা ৩০০ মিলিয়ন। 
ফেসবুকে প্রতি ভিজিটরের এভারেজ টাইম স্পেন্ড ২০ মিনিট।  প্রতি মিনিটে ৫,১০,০০০ কমেন্টস, ২,৯৩,০০০ স্ট্যাটাস এবং ১,৩৬,০০০ ছবি আপলোড হয়ে থাকে। 
ফেসবুকে ১৬ মিলিয়ন লোকাল বিজনেস পেজ তৈরি করা হয়েছে। ৪২ % ব্যবসায়ী মনে করেন ফেসবুক তাদের বিজনেসের প্রধান হাতিয়ার। ১৮-২৪ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর মধ্য ৫০% ব্যবহারকারী ঘুম থেকে উঠেই ফেসবুক ব্যবহার করে বা বলা যায় ফেসবুকে এসেই তাদের ঘুম ভাঙ্গে। এক প্রতিবেদনে বলা হয় ফেসবুক ব্যবহার কারি প্রতি বছর ১৭% হারে বাড়ে এবং এটি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

- একবার ভেবে দেখুন আপনার যে প্রচলিত মার্কেটিং বলতে আসলে কি বুঝাচ্ছেন ? পোস্টার,ব্যানার ,লিফলেট ,বিলবোর্ড ,মাইকিং ,দেয়াল লিখন ,অফিস ভিজিট ইত্যাদি। এবার একটা কথা বলুন যতগুলো পদ্ধতির কথা বললেন , এদের মধ্যে কোন একটি পদ্ধতি কি আপনি টার্গেট করে আপনার মার্কেটিং করতে পারবেন ? না পারবেন না ।
কারন আপনি ঢাকার উত্তরাতে থাকলে তাহলে আপনার জন্য ধানমন্ডিতে পণ্য বিক্রয় করা কষ্টসাধ্য হবে । অনেক ক্রেতা তাদের কাছের দোকান বা প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনতে ভালবাসে। আবার তাদের আশেপাশে অনেক প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে আপনার থেকে কেন নিবে?  এদেরকে যদি আপনি টিভি বা রেডিও এর কথা ভাবেন, তাহলে একটা কথা বলবো, সেখানে দুই পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন এর খরচ অনেক বেশি এবং সব ব্যবসায়ীদের পক্ষে বিজ্ঞাপন দেয়া সম্ভব নয়।

প্রচলিত যেসব টেলিভিশন , বড় বড় পত্রিকা আছে তারাও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য ফেসবুকের উপর নির্ভরশীল । তাদের বিজ্ঞাপন দিন দিন কমেই যাচ্ছে ।

তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন, আপনার প্রচলিত এই বিজ্ঞাপন এর সমস্যাগুলো কোথায় কোথায় ? কিন্তু একবার ডিজিটাল মার্কেটিং এর কথা ভাবুন এই পদ্ধতিতে অনলাইনে আপনি সহজেই পৌছে যেতে পারেন আপনার টার্গেটেড কাস্টমারের কাছে । আপনি যে এলাকার ঐ এলাকার কাস্টমারকে টার্গেট করে নিচিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন । একবার কাস্টমার আপনার এখানে আসলে তাদেরকে ধরে রাখতে পারবেন আজীবন । তবে অবশ্যই আপনার কাস্টমারকে ভালো পণ্য এবং সেবা দিতে হবে সততার সাথে ।  

৪. কি কি লাভ আছে এতে ?

- যেকোন নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক কাস্টমারকে টার্গেট করতে পারবেন
- ছোট , বড় সব ব্যবসার বিক্রি-প্রচারের জন্য সর্বত্তোম স্থান
- আপনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, মোবাইল শোরুম, গেজেটস, গাড়ির শো-রুম, বই বিক্রি,  কাপড় থ্রি-পিস, শার্ট-গেঞ্জি, কসমেটিক্স, ট্রাভেল এজেন্ট, রিসোর্ট, ফার্মাসিটিক্যালস, হসপিটাল, স্কুল-কলেজ-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, বীমা  যা কিছুর ব্যবসা করেন, সকল ব্যবসার পণ্য বা সেবা বিক্রি করা সম্ভব ফেসবুকে । 
- কাস্টমারের চাহিদা সহজেই বুঝতে পারবেন 


৫. কীভাবে করতে পারেন ?

- আপনাকে ফেসবুক এডস এর উপর অনেক দক্ষতা অর্জন করতে হবে , নইলে শুধু শুধু আপনার অনেক টাকা নস্ট হবে । আপনাকে জানতে হবে কীভাবে, কোথায় , কোন সময়, কোন এলাকায় আপনি কাস্টমার খুজে পাবেন । অনেকে বুস্টিং মানেই ফেসবুক এডস মনে করে কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে ভালো করে না জানার কারণে অনেকেই শুধুমাত্র বুস্টিং করে বহু টাকা লস করছে । 

অনেকেই আমাদের কাছে এসে বলে তাদের লসের কথা । ফেসবুকে এডের নানা সিক্রেট সমীকরণ আছে । ঠিকমত টার্গেট করতে পারলে আপনি বাজিমাৎ করতে পারবেন । ফেসবুক এডের 
ইন-ডেপথ বিষয়গুলো শিখতে আমাদের কয়েক বছর ব্যয় করতে হয়েছে ।
কীভাবে ফানেল করে ছাকুনি দিয়ে আপনার কাস্টমার সংগ্রহ করবেন এগুলো নিয়ে বিস্তারিত জ্ঞান না থাকলে , আপনি লাভের বদলে লস করবেন । আবার অনেকেই ফেসবুক ব্যাবহার করে মাসে কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করছে । আপনার সিন্ধান্ত আপনি লাভজনক কিছু করবেন না লস করবেন । চাইলে আপনি নিজেও কয়েক বছর ব্যয় করে ফেসবুক এডসের উপর দক্ষতা অর্জন করে আপনার ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন । আপনি নিজে করলে সেটা খুবই ভালো হয় ।

No comments

Theme images by enot-poloskun. Powered by Blogger.